ডিভাইস রিভিউ

কেমন ২২ হাজার টাকার স্টুডেন্ট ল্যাপটপ?

কম দামে ভাল ল্যাপটপ কোনটা? ভাইয়া আমি তো স্টুডেন্ট আমার একটা ল্যাপটপ দরকার, আমার জন্য ভাল ল্যাপটপ কোনটি হবে? এমন প্রশ্নের সম্মুখীন সবসময়ই হতে হয়। তো একটি ল্যাপটপ রিভিউ এর মাধ্যমে এই রিভিউটি দেয়ার চেষ্টা করব। প্রিলুড আর১ ল্যাপটপটি আমি নিজেও প্রায় কিছুদিন হল ব্যবহার করছি, সে হিসেবে।

আমি প্রিলুড আর১ এর যে মডেলটি ব্যবহার করছি সেটি হল, WPR14N34GR। বর্তমানে এই প্রিলুড আর১ প্রসেসর এর ভেদে দুটি মডেল এবং  ৩টি কালার ভেরিয়েন্টে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আমার WPR14N34GR মডেল এর দাম ২১৯৯০ টাকা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে Intel® Apollo lake N3450 প্রসেসর। তবে ১৯৯৯০ টাকার ভেরিয়েন্টে ব্যবহার করা হয় Intel® Apollo lake N3350।

প্রসেসর বৃত্তান্ত

প্রথমেই এই বিষয়টি নিয়ে আসি, কেননা এটিই আমাদের এই ল্যাপটপটির আসল রহস্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। এই ল্যাপটপটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেল এর অ্যাপোলো লেক সিরিজের প্রসেসর। আপনারা যারা ইন্টেল সেলেরন প্রসেসর এর নাম শুনেছেন এটা সেই ফ্যামিলির প্রসেসর। আমার WPR14N34GR মডেলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে  Intel® Apollo lake N3450 প্রসেসরটি।

এটি একটি কোয়াড কোর প্রসেসর। প্রসেসরটির বেইজ ফ্রিকুয়েন্সি 1,100 MHz এবং কাজের নাগিদে সর্বোচ্চ 2,200 MHz পর্যন্ত বুস্ট হতে পারে। আর এই প্রসেসর এর সাথে ডিভাইসটিতে ইন্টিগ্রেটেড জিপিইউ হিসেবে থাকবে Intel HD Graphics 500। সুতরাং, এই দিক দিয়ে ডিভাইসটি বেশি নয়, খুবই সাদামাটা, বেসিক বলতে গেলে।

মেমোরি

এই দিক দিয়ে একটু এগিয়ে থাকছে এই প্রিলুড আর১। কেননা এতে পাওয়া যাবে ৪ জিবি ডিডিআর৩ র‍্যাম। পুরো ল্যাপটপটির মেইন স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে থাকছে একটি ১ টেরাবাইট এইচডিডি ড্রাইভ।

জেনুইন উইন্ডোজ ১০

হ্যাঁ আমরা তো অনেকেই দোকান থেকে ৫০ টাকার উইন্ডোজ এর সিডি কিনে বা বন্ধুদের থেকে ধার নিয়ে কম্পিউটারে উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকি, অনেকদামের কারনে অনেকেরই আসল জেনুইন উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। তবে এই ল্যাপটপটির সাথে প্রি-ইন্সটলড অবস্থায় জেনুইন উইন্ডোজ ১০ পাচ্ছেন।

কাদের জন্য  প্রিলুড আর১?

আমার নিজের একটি কোর আই৫ প্রসেসর সহ কম্পিউটার আছে। এখন আমি আমার এই ল্যাপটপটি কেনার কারন বলি। মূলত বাসার বাইরে গেলে বা অন্য কথাও ভ্রমনে গেলেও আমার নিয়মিত ওয়েবসাইটে লেখা দেয়ার প্রয়োজন পরে। তাছাড়াও পড়াশোনার জন্য সবসময়ই নিয়মিত ইউটিউবে ভিডিও লেসন দেখার প্রয়োজন পরে।আর কম্পিউটার থাকার পাশাপাশি এসময় একটি ল্যাপটপ খুবই হ্যান্ডি এবং ডেইলি ড্রাইভার হিসেবে খুবই উপযোগী হিসেবে কাজ করে। আর নিশ্চয়ই এ জন্য আমার কোন হাই স্পেসিফিকেশন ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজন নেই, এই জন্য আমার দরকার একটি সিম্পল বেসিক ল্যাপটপ আর সে জন্যই আমার এই প্রিলুড আর১ বাছাই করা।

যারা এসইও, অনলাইন মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইনিং, ই-কমার্স এর কাজ করেন তাদের কিন্তু খুব হাই স্পেসিফিকেশন পিসি বা ল্যাপটপ দরকার পরে না, বরং তাদের কোন এক কম্পিউটার সারাক্ষন বহন করা এবং চালু রাখার দরকার পরে। আর আমি বলব ঠিক তাদের জন্য এমন এক ডিভাইস। প্রিলুড আর১ কে আমি একটি পারফেক্ট ল্যাপটপ কখনও বলতে না পারলেও, একে একটি পারফেক্ট নেটবুক বললে ভুল হবেনা।

আরও পড়ুনঃ ক্রোমবুক বনাম ল্যাপটপ, এদের ভেতর পার্থক্য কোথায়? 

সেরা স্টুডেন্ট ল্যাপটপ?

পড়াশোনার একজন স্টুডেন্ট এর ল্যাপটপে কি দরকার। আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর স্টুডেন্ট বা কম্পিউটার সাইন্স এর স্টুডেন্ট হন তবে আপনি ব্যাতিক্রম। একজন স্টুডেন্ট এর ল্যাপটপে সাধারন কাজ হল; বিভিন্ন ডকুমেন্ট লেখা, পিডিএফ বই বা সিট পড়া, অনলাইনে কোন লেসন স্টাডি করা,বিভিন্ন ভিডিও লেসন দেখা, কোনো অনলাইন কোর্স করা, টুকটাক মাইক্রোসফট এক্সেস,অফিস, এক্সেল এর কাজ করা,প্রতিবেদন জমা দেয়া, ইন্টারনেটে টপিক রিসার্চ করা, আর যারা এইচএসসি স্টুডেন্ট তাদের এইচটিএমএল,ডেটাবেইজ প্র্যাকটিস করা ইত্যাদি।

এইতো, স্টুডেন্ট দের এই বাইরে নিশ্চয়ই আর কোন ভারি কাজ থাকার কথা না। যদি আপনি স্টুডেন্ট হন আর আপনার এসবই কাজ থাকে, তবে এই ল্যাপটপটি আপনার জন্য পারফেক্ট হবে আমি আশা করি। আর এই হিসেবে একে একটি পারফেক্ট বা সেরা স্টুডেন্ট ল্যাপটপ বলা যায়।

ডিজাইন

আর যাই হোক, এই প্রিলুড আর১ ল্যাপটপটির ডিজাইন যথেষ্ট প্রিমিয়াম মানের লেগেছে আমার কাছে। আপনার কাছে যেই আসবে সে একবার ল্যাপটপ টিকে নেরে-চেড়ে দেখবেই! একে অনেকটা অ্যাপেল ম্যাকবুক এর মত দেখতে মনে হবে। দূর থেকে মেটাল বডি মনে হলেও, আদত এটি হাই কোয়ালিটি প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা তৈরি করা। প্রিলুড আর১ ল্যাপটপটি খুবই লাইট একটি ল্যাপটপ, এক হাতে একে খুবই সহজে বহন করা যাবে।

ল্যাপটপটি অন থাকা অবস্থায়  ডিসপ্লে এর ব্রাইটনেস এর কারনে এর পিছে থাকা ওয়ালটন এর লোগোটি গ্লো করে; আর এসব কারনেই ২২ হাজার টাকার এই ল্যাপটপকে আউটলুকের বিচারে কোনোভাবেই এই দামের সাথে মিল পাওয়া যায় না।

ইনপুট এবং আউটপুট

ল্যাপটপটিতে কোন ল্যান পোর্ট নেই, তবে এতে ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি রয়েছে। ফিজিক্যাল ইনপুট ও আউটপুট হিসেবে  এতে হাতের ডান পাসে একটি কম্বাইন অডিও পোর্ট, রেগুলার ইউএসবি পোর্ট এবং একটি মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট থাকছে।

যেই মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট বেশিরভাগ ল্যাপটপে দেখা যায় না। প্রিলুড আর১ ল্যাপটপটিতে তা থাকছে। আর হাতের বাম পাশে থাকছে একটি চার্জিং পোর্ট, একটি ৩.০ ইউএসবি পোর্ট এবং একটি মাইক্রো এইচডিএমআই পোর্ট। আর ল্যাপটপটির কিবোর্ড এর নিচে থাকা মাউস প্যাডটি অন্যান্য ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের মতোই যথেষ্ট সেনসিটিভ। আর ভিডিও কলিং এর জন্য একটি ক্যামেরা তো থাকছেই।

কেনো তবে জানিনা এই ল্যাপটপটির চিকলেট কিবোর্ড এরসামনে এবং ডিসপ্লে এর বটম প্যানেলে আপনি দুটি মাইক্রোফোন দেখতে পারবেন।

বাংলা কিবোর্ড

ল্যাপটপ কিনলেই বাংলা বিজয় লে-আউট এর জন্য আমাদের একটি বাংলা কি বোর্ড কিনতে হত। তবে এই ল্যাপটপ এর কি প্যাড এর সাথেই বাংলা বর্ণমালা বিজয় লেআউটের ক্রমানুসারে সাজানো আছে। আর টাইপিং এর ক্ষেত্রে আমার ব্যবহার করা অন্যান্য ল্যাপটপের মতোই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়েছে।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular

ফন্ডঅফটেক একটি বাংলাদেশ ভিত্তিক টেকনোক্র্যাট নিউজ পোর্টাল। আমরা এই প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক মানসম্মত কনটেন্ট প্রকাশ নিয়মিত প্রকাশ করার চেষ্টা করে থাকি।

আমাদের স্লোগান, 'প্রযুক্তি সংবাদ, যেটা মূল্য রাখে।'

To Top