অনুপ্রেরণাচিন্তার বাইরে!

তন্ময় বকসী : একজন কিশোর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ার

2

নাম তার তন্ময় বকসী ,বয়স বেশি নয় ১৪। তবে তার বয়সের দিকে তাকালে ভুল হবে। কিশোর তন্ময় বকসী তার মাত্র ১২ বছর বয়সেই বনে গিয়েছিলো আইবিএম এর সর্ব কনিষ্ঠ ওয়াটসন ইঞ্জিনিয়ার। আইবিএম ওয়াটসন একটি ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিন যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) পাশাপাশি ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) পরিচালনা করে।

তন্ময় বলে, ‘এটি আমার কাছে একটা মুগ্ধকর বিষয় যে কিভাবে কম্পিউটার যেকোনো কিছু করতে পারে’। ১২-১৪ বয়সের কিশোর হিসেবে আমরা কি করি? বেশিরভাগ সময়ই পড়াশোনার পাশাপাশি হয়ত ক্রিকেট,ফুটবল এসব খেলাধুলা নিয়েই মাতামাতি থাকি। তবে তন্ময় এর সব মাতামাতি ছিল কম্পিউটার নিয়ে। কম্পিউটার তন্ময়ের শরীরে নয়, ছিল রক্তে। তন্ময় এর জন্ম ২০০৩ সালে ভারতের দিল্লীতে। তবে তার পরের বছর তথা ২০০৪ সালেই তাদের পুরো পরিবার চাকরির বড়াতে কানাডায় পারি জমায়, আর সেখানেই স্থায়ী হয়।

তন্ময়ের এই প্রোগ্রামিং খেলার পিছে তার সবচেয়ে বড় পথ প্রদর্শক ছিল তার বাবা পুনিত বকসী। পুনিত বকসী পেশায় ছিলেন একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তথা প্রোগ্রামার। আর বাবার প্রোগ্রামিং এবং কোডিং এর জাদু ছেলে তন্ময় বকসী’কে একদম সেই ছোট্ট বেলাই মুগ্ধ করে। মাত্র ৫ বছর বয়স থেকে তন্ময় বকসীর কম্পিউটার প্রোগ্রামিং হাতে খড়ি হয়।

৭ বছর বয়সে তন্ময় তার নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে বসে। সেই ইউটিউব চ্যানেলে তন্ময় কোডিং এবং ওয়েব ডেভেলপিং এর টিউটোরিয়াল আপলোড করতে শুরু করে। তন্ময় নিজে কোনকিছু শেখার পাশাপাশি তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করত আর এই ইউটিউব চ্যানেলই তার বহিঃপ্রকাশ। তন্ময় নিয়মিত কোডিং, কম্পিউটার অ্যালগরিদম, মেশিন লার্নিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিশেষ করে ওয়াটসন সম্পর্কিত ভিডিও এর পাশাপাশি গনিত এবং বিজ্ঞান বিষয়ক নানান ভিডিও তার এই চ্যানেলে আপলোড করে। চ্যানেলটির নাম tanmay bakshi।

মাত্র ৯ বছর বয়সে তন্ময় প্রথম আইওএস অ্যাপ তৈরি করে । ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

মাত্র ৯ বছর বয়সে তন্ময় প্রথম আইওএস অ্যাপ তৈরি করে।  ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

ইউটিউব চ্যানেল এর পর তার আরেকটি ছোট্ট সাফল্য ছিল; এটা হল মাত্র ৯ বছর বয়সে তার প্রথম আইওএস অ্যাপ তৈরি। তন্ময় tTables নামে তার প্রথম একটি আইওএস অ্যাপ তৈরি করে, যার মাধ্যমে যে কেউ নামতা তথা গুণন শিখতে পারত। আর ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার তৈরি প্রথম এই আইওএস অ্যাপলিকেসনটি অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে লঞ্চ হয়। এর পর তন্ময় tGuess, tTable Plus, I Can We Can, tID Vault নামে আরও কিছু আইওএস অ্যাপ তৈরি করে, যা এখনও অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাবে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর অপর দেখা একটি প্রামাণ্য চিত্র তন্ময়কে এর প্রতি অনেক আকৃষ্ট করে। সে আইবিএম ওয়াটসন প্ল্যাটফর্ম এর অপর কাজ শুরু, আর কিছু সপ্তাহের ভেতর আইবিএম ওয়াটসন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রশ্ন উত্তর প্রোগ্রাম তৈরি করে ফেলে যার নাম ছিল ‘Ask Tanmay’। যেই প্রোগ্রামটি এআই খাটিয়ে নিজে থেকেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারত। ডকুমেন্ট কনভার্সন প্রোগ্রাম,যা সাধারণত এক ফাইল ফরম্যাটকে অন্য ফাইল ফরম্যাটে রুপান্তর করে। একবার আইবিএম এর এমন একটি প্রোগ্রাম ঘাটাঘাটি করতে করতে তন্ময় এর ভেতর বেশ কিছু বাগ খুঁজে বের করে। তারপর সে সেই বাগ তার টুইটার অ্যাকাউন্ট এবং একটি প্রোগ্রামিং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। আর এটা আইবিএম এর বেশ নজরে আসে। আইবিএম বড় বড় কিছু টেকনিক্যাল কর্মকর্তারা তন্ময়ের সাথে যোগাযোগ করে।

ওয়াটসন এবং এআই এর প্রতি তন্ময় এর যে আকর্ষণ তা তারা বুঝতে পারে। এরপর দুজন আইবিএম কর্মকর্তা তন্ময়কে এসব ক্ষেত্রে সরাসরি সহযোগিতা শুরু করেন এবং তন্ময়কে আইবিএম এর সাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। বর্তমানে তন্ময় তার ইউটিউব চ্যানেল এর মাধ্যমে নিয়মিত মানুষের সাথে তার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স,আইওটি,প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে যুক্ত হয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তন্ময় আইবিএম এর বহু কনফারেন্সে সরাসরি হাজার হাজার মানুষের সামনে দাড়িয়ে এসব বিষয় নিয়ে বক্তব্যও রেখেছে। বর্তমানে তার ইউটিউব চ্যানেলে ২ লক্ষ এর কিছু বেশি সাবস্ক্রাইবারস রয়েছে।

তন্ময় এর মত কিশোর আমাদের শিক্ষা দেয়, লক্ষ্যের পেছনে অটল হয়ে যাত্রা কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছে দেয়। আমাদের সবার তন্ময় এর মত নিজেদের গুপ্ত প্রতিভাকে অন্বেষণ করে তাকে সমৃদ্ধ করে সদা-সর্বদা পরিশ্রম করে যেতে হবে।

তৌহিদুর রহমান মাহিন
Technology can be a very good hobby of somebody. I'm a little too much

    হ্যান্ডস অন রিভিউ : Walton Primo R5+

    Previous article

    হুয়াওয়ে এর ৫জি টেকনোলজি : আমেরিকার কেনো এত ভয়!

    Next article

    You may also like

    ২ Comments

    1. অনেকদিন পর এমন অনুপ্রেরণাদায়ক আর্টিকেল পড়লাম

    Leave a reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *