বিশ্বব্যাপী লকডাউনে নেটফ্লিক্সে যুক্ত হল ১৫.৮ মিলিয়ন নতুন গ্রাহক!

নেটফ্লিক্সে প্রায় ১৫.৮ মিলিয়ন নতুন গ্রাহক
বিশ্বব্যাপী লকডাউনে নেটফ্লিক্সে যুক্ত হল ১৫.৮ মিলিয়ন নতুন গ্রাহক!

বিশ্বব্যাপী যখন করোনা ভাইরাস মহামারিতে সকল মানুষ গৃহবন্দী, তখন মানুষের দরকার বিনোদনের জন্য কোন ভালো মাধ্যম। এমন একটি মাধ্যম যেখানে তারা তাঁদের এই ঘরে থাকা সময়কে কাটাতে পারে। ঠিক এমনই একটি মাধ্যম হয়ত নেটফ্লিক্স, আর এই বিষয়টি প্রমান করে নেটফ্লিক্সের নতুন সাবস্ক্রাইবার রিপোর্ট। পুরো পৃথিবীতে এই লকডাউনের সময়ে অনলাইন অরিজিনাল কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে প্রায় ১৫.৮ মিলিয়ন নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে।

আর অস্বাভাবিক এই গ্রাহক বৃদ্ধি সহ বর্তমানে নেটফ্লিক্সের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৮২.৯ মিলিয়নের মত। তবে কোম্পানিটি এটিও নিশ্চিত করেছে যে, নতুন এই গ্রাহক বৃদ্ধি হয়ত কিছু সময়ের জন্য। নতুন এই গ্রাহক রিপোর্টের সাথে নেটফ্লিক্স তাঁদের শেয়ারহোল্ডারদের যে চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে তারা উল্লেখ্য করেছে, নতুন এই গ্রাহক বৃদ্ধির হার হয়ত কবে যাবে, লকডাউন বন্ধ হওয়ারমধ্য দিয়ে।

নেটফ্লিক্স চিঠিতে উল্লেখ্য করেছে, এই সাময়িক সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি সময়ের সাথে সাথে কমে যাবে। দেশে দেশে লকডাউন কমার সাথে সাথে এই সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধিও আগের মত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আর যে ব্যাক্তি এই লকডাউনের সময়েও নেটফ্লিক্সে জয়েন করেনি , সে পরিস্থিতি ভালো হলেও কখনও নেটফ্লিক্সে জয়েন করবে না।

নেটফ্লিক্স সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় তাঁদের নিজের তৈরি কনটেন্ট তৈরি করে এই প্লাটফর্মে প্রদর্শন করানোর জন্য। তবে লকডাউনের জন্য তাঁদের এই অরিজিনাল কনটেন্ট তৈরিতেও অনেক সমস্যা পহাতে হচ্ছে। তার মধ্যে তারা তাঁদের কর্মচারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের ফান্ডও তৈরি করেছে।

নেটফ্লিক্স চিঠিতে এটিও উল্লেখ্য করেছে, যেহেতু আমাদের বিশ্বব্যাপী প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাই আমাদের নতুন কনটেন্ট দিতে নেক সমস্যা হচ্ছে। তবে আমাদের আগেই যেসব কনটেন্ট শুট করা ছিল, আর যেগুলো কনটেন্ট পোস্ট প্রোডাকশনে ছিল সেগুলো আমরা এই সময়ে প্রকাশ করার চেষ্টা করব।

শতকোটি বাজেটের ওয়েব সিরিজ নির্মানে সক্ষম নেটফ্লিক্স কথন

নেটফ্লিক্স কি?

পৃথিবীর অন্যতম বড় কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড মিডিয়া সার্ভিস প্রোভাইডার হল নেটফ্লিক্স।  আমেরিকান এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বেশ ভালোভাবে বাজার কাঁপাচ্ছে। নেটফ্লিক্স মূলত একটি ওটিটি নেটওয়ার্ক, যার মানে দাঁড়াচ্ছে অভার দা টপ মিডিয়া সার্ভিস।  আমরা আগেকার দিনে রেডিও শুনতাম, তারপর এল টেলিভিশন এর যুগ আর এখন বর্তমানে অনলাইনের যুগ।  এখন  বিনোদন এর ক্ষেত্রে টেলিভিশন, রেডিও এর চাইতেও বেশি জনপ্রিয় হল অন দা ডিম্যান্ড সার্ভিস।  যার মানে হল যখন আমি যা দেখতে চাব তখন সেটিই দেখতে পাওয়া।  মানুষ এখন আর ওয়ার্ল্ড টেলিভিশন প্রিমিয়ার এর জন্য বসে থাকে না।  তো বর্তমান বিনোদন মাধ্যম গুলো ঝুকে যাচ্ছে ‘কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড’ এর দিকে।  আর নেটফ্লিক্স বর্তমান সময়ের অন্যতম  ‘কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড’ মাধ্যম বলে, একে বলা হচ্ছে অভার দা টপ মিডিয়া সার্ভিস।