শতকোটি বাজেটের ওয়েব সিরিজ নির্মানে সক্ষম নেটফ্লিক্স কথন

পৃথিবীর অন্যতম বড় কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড মিডিয়া সার্ভিস প্রোভাইডার হল নেটফ্লিক্স।  আমেরিকান এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও বেশ ভালোভাবে বাজার কাঁপাচ্ছে।  সম্প্রতি তারা ভারতে ১০০ কোটি রুপির বাজেটে ‘স্যাক্রেট গেমস সিজন-২’ তৈরি করেছে।  তো নেটফ্লিক্স কি আর তাদের আয়ের মডেল কেমন এবং কিভাবে তারা এই ১০০ কোটি টাকার ইনভেস্টকে ১০০০ কোটি টাকা বা আরও বেশিতে পরিণত  করতে পারে কিনা , আর পারলেও কিভাবে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা করব।

শতকোটি বাজেটের ওয়েব সিরিজ নির্মাতা নেটফ্লিক্স কথন, ছবিতে নয়াজউদ্দিন সিদ্দীকি
শতকোটি বাজেটের ওয়েব সিরিজ নির্মাতা নেটফ্লিক্স কথন, ছবিতে নয়াজউদ্দিন সিদ্দীকি

নেটফ্লিক্স মূলত একটি ওটিটি নেটওয়ার্ক, যার মানে দাঁড়াচ্ছে অভার দা টপ মিডিয়া সার্ভিস।  আমরা আগেকার দিনে রেডিও শুনতাম, তারপর এল টেলিভিশন এর যুগ আর এখন বর্তমানে অনলাইনের যুগ।  এখন  বিনোদন এর ক্ষেত্রে টেলিভিশন, রেডিও এর চাইতেও বেশি জনপ্রিয় হল অন দা ডিম্যান্ড সার্ভিস।  যার মানে হল যখন আমি যা দেখতে চাব তখন সেটিই দেখতে পাওয়া।  মানুষ এখন আর ওয়ার্ল্ড টেলিভিশন প্রিমিয়ার এর জন্য বসে থাকে না।  তো বর্তমান বিনোদন মাধ্যম গুলো ঝুকে যাচ্ছে ‘কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড’ এর দিকে।  আর নেটফ্লিক্স বর্তমান সময়ের অন্যতম  ‘কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড’ মাধ্যম বলে, একে বলা হচ্ছে অভার দা টপ মিডিয়া সার্ভিস।

নেটফ্লিক্স সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হইনি, নেটফ্লিক্স এর জন্ম ১৯৯৭ সালে।  ব্যবসার প্রথমে নেটফ্লিক্স সিডি বিক্রি করত।  আর তাদের ব্যবসার শুরুর এইসব অভিজ্ঞতা থেকে তারা দিনে দিনে অনেককিছু শিখেছে।  যে দেশে মানুষের কাছে ইন্টারনেট এর এক্সেস বেশি, সেইসব দেশে নেটফ্লিক্স তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি  করে। সম্প্রতি তারা ২০১৬ সালের পর ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে।  নেটফ্লিক্স এর ভাষ্য হচ্ছে যে দেশে  মানুষ ইন্টারনেট এর বিল দিতে পারেনা, তারা আমাদের প্যাকেজ কিনবে কি? তবে ভারতে জিও আসার পর থেকে তাদের ইন্টারনেট অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়ে যায়, ইন্টারনেট ইউজারও বহু সংখ্যায় বেড়ে যায়।   অতঃপর সে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা হুহু করে বাড়ার কারনে নেটফ্লিক্স তাদের দেশেও প্রবেশ করে।  আর এখন সেখানে নেটফ্লিক্স ১০০ কোটি রুপিরও বেশি বাজেটে ওয়েব সিরিজও তৈরি করছে।

এক সমীক্ষায় দেখা দিয়েছে যে বর্তমানে ভারতে ৪১ লাখেরও বেশি নেটফ্লিক্স পেইড কাস্টমার রয়েছে।   গড়ে ৫০০ টাকা করে মাসিক সাবস্ক্রিবশন ধরলে আপনি ধারনা করতে পাচ্ছেন তারা কিভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করছে।  নেটফ্লিক্স এখানে বিভিন্ন মুভির স্ট্রিমিং পার্টনার হয়ে সেই মুভি গুলো তাদের প্লাটফর্মে আপলোড করে মানুষের মাঝে মাসিক সাবস্ক্রিপশন বিল নিয়ে  মানুষের কাছে সেই কনটেন্ট গুলো প্রচার করছে।

অনেকে বলতে পারেন নেটফ্লিক্স তো ইউটিউব এর মত।  তবে ইউটিউব এর হিসেবে এদের আয় করার পলিসি একদম ভিন্ন।  ইউটিউব হচ্ছে একটি ওপেন নেটওয়ার্ক, এখানে যে কেউ ভিডিও আপলোড করতে পারে, এবং দেখতে পারে।  আর ইউটিউব এর মূল আয় হচ্ছে বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক।  ইউটিউব বিজ্ঞাপন এর ৪০ ভাগ টাকা নিজেরা রেখে দেয় এবং বাকি টাকা মূল ভিডিও নির্মাতাকে প্রদান করে।  তবে নেটফ্লিক্সে আপনি কোন ভিডিও আপলোড করতে পারবেননা।  এখানে নেটফ্লিক্স আপনাকে সেই ভিডিওই দেখাবে যা তারা সেখানে আপলোড করে রেখেছে।  আর এখানে তারা এই জন্য খুব প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কনটেন্ট রাখে, যাকিনা আসলেই দেখার মূল্য রাখবে।  কেননা তাদের আয়ের মূল উৎসই হচ্ছে গ্রাহকের সাবস্ক্রিপশন থেকে।

নেটফ্লিক্স সবসময় এমন সব কনটেন্ট তাদের প্লাটফর্মে রাখে যা সাধারণত টেলিভিশন ,অন্য কোন অনলাইন মিডিয়া এবং  কন্টেন্ট অন ডিম্যান্ড সার্ভিসে পাওয়া যাবে না।  তারা একটি ওয়েব সিরিজ আপলোড করেছিল  ‘স্যাক্রেট গেমস সিজন-১’ সেটার বাজেট কম ছিল, তবে গল্প ছিল খুব ভালো, সেটার কারনে ভারতের বাজারে এই নেটফ্লিক্স খুব ভালো একটি হাইপ পেয়েছিল।  বর্তমানে তারা এত টাকা আয় করেছে যে নিজেদের প্রযোজনায় প্রায় ১০০ কোটি রুপিরও বেশি খরচ করে ‘স্যাক্রেট গেমস সিজন-২’ নির্মাণ করেছে।  যেখানে দেখা যাবে নয়াজউদ্দিন সিদ্দীকি, সাইফ আলি খান, সুরভিন চাওলা, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, রাধিকা আপতে এর মত জনপ্রিয় বলিউডের স্টারদের।  আর সেই সিজন পুরোটা দেখার জন্য মানুষ কয়েকমাস ধরে নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশন কিনেছিল, যাতে করে অনায়াসেই তাদের বাজেট এর টাকা দশ-বারো গুনে উঠে এসেছে।