প্রিন্টারের কালির দাম এতো বেশি যেকারনে!

প্রিন্টারের কালির দাম এতো বেশি যেকারনে!
প্রিন্টারের কালির দাম এতো বেশি যেকারনে!
  • অনেক সময় দেখা যায়, প্রিন্টারের চাইতে প্রিন্টারের কালির দামই বেশি।

  • একটি পুরানো ‘রেজার এন্ড ব্লেড’ বিজনেস মডেল অনুসরণ করে, প্রিন্টার কোম্পানিগুলো প্রিন্টার লোকসানে বিক্রি করে, অতঃপর কালি বিক্রি করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে ভালো লাভ করে নেয়।

  • নিজস্ব ব্র্যান্ডের কালার কার্টিজের ভেতর থাকা চিপে প্রতিনিয়ত ফার্মওয়্যার আপডেট দিয়ে দিয়ে, তারা থার্ড পার্টি ব্র্যান্ডের কালার কার্টিজ ব্যবহার করা রীতিমতো অসম্ভব করে দেয়।  বাধ্য হয়ে প্রিন্টার ব্র্যান্ডের কার্টিজই ব্যবহার করতে হয়।

কখনও ভেবে দেখেছেন? আপনি যদি ১ লিটার প্রিন্টারের কালি কখনও কিনতে যেতেন তবে তার খরচ আসত প্রায় ৫ লক্ষ টাকা! আর কার্টিজ আকারে এই প্রিন্টারের কালি যেন ‘রক্তের চেয়ে কলমের কালির দাম বেশি’ কথার স্মরণ করিয়ে দেয়; যাই হোক এটি প্রিন্টারের কালি।  এমনকি অনেক সময় কালার কার্টিজের দামে একটি পুরো আস্ত ইঙ্কজেট প্রিন্টারই কিনে ফেলা যায়।  এই লেখার মূল আলোচ্য বিষয় আসলে এইসব প্রিন্টারের কালির দাম কেনো এত বেশি? 

ইঙ্কজেট প্রিন্টার প্রথম ডেভেলপ করা হয় ১৯৬০ সালের দিকে।  সে সময় খাবার রঞ্জক বা খাবারের রঙ এবং পানি দিয়ে প্রিন্টারের কালি তৈরি করা হয়েছিল।  তবে সমস্যা হচ্ছে সেই কালি বেশিদিন থাকতো না।   এর জন্য দরকার ছিল খাবার রঞ্জক এর পরিবর্তে এমন একটি রঞ্জক যা দীর্ঘদিন তথা বহুকালের জন্য স্থায়ী হবে এবং প্রিন্টিংএ একটি ফটোগ্রাফিক কোয়ালিটি এনে দিবে।  ১৯৮৮ সালে এইচপি এমনি একটি রঙ আবিস্কার করে ফেলল।  সেসময় তারা তাদের প্রথম ডেস্কজেট নামক ইঙ্কজেট প্রিন্টার এর বিপুল আকারে প্রোডাকশন শুরু করে।  আর সে সময় সেই প্রিন্টার এর দাম ছিল ১০০০ ডলার তথা বর্তমান টাকায় ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি।

প্রিন্টারের কালির দাম এতো বেশি যেকারনে!

তবে আজকের দিনে আপনি ২০০০ টাকা দিয়েও ইঙ্কজেট প্রিন্টার কিনতে পারবেন।  তবে এখানে একটি ব্যাপার আছে।  আপানার প্রিন্টার এর যদি কালি শেষ হয়ে যায়, তবে আপনাকে সেই ব্র্যান্ডেরই স্পেসিফিক মডেল এর কার্টিজ কিনতে হবে।  আর সেই সব কার্টিজ এর দাম প্রায় প্রিন্টারের দামের সমান।  তো প্রিন্টার কোম্পানিদের কার্টিজের দাম কেন এতো বেশি।  এর সহজ একটি উত্তর বলা যায়, লোভ এবং ব্যবসা।  কোম্পানিগুলো প্রিন্টার খুবই কম দামে বিক্রি করে, এমনকি লোকসানেই।  তবে সেই প্রিন্টার এর জন্য আনুসাঙ্গিক যে জিনিসগুলো পরে আপনাকে কিনতে হবে, যেমনঃ কার্টিজ তা আপনাকে খুব চড়া দামে পরিশোধ করতে হবে।

তো আপনি একটি প্রিন্টার কিনলেন জেটি কিনা কালার কার্টিজ ব্যবহার করে, আপনি সেটি কেনার মাধ্যমে সেই কোম্পানির ট্র্যাপে পরে গেলেন।  এখন এমন একটি পরিস্থিতি হবে যে , আপনাকে ওই কার্টিজ কিনতে হবে না হয় আপনাকে সেই প্রিন্টার ফেলে দিতে হবে।  প্রিন্টার হল একটি ওয়ান টাইম পারচেজ ইলেক্ট্রনিক আইটেম।  উদাহরণ হিসেবে প্রিন্টার কেনা মানে আপনি ফ্রিতে বাসায় ব্রডব্যান্ড কানেকশন নিলেন, এখানে কোম্পানি আপনাকে নিজেদের খরচে লাইন লেগে দিবে, তবে মাসে মাসে বিলের মাধ্যমে সেই টাকা পুষিয়ে নিবে।  প্রিন্টার এর ক্ষেত্রে মাসে মাসে কার্টিজ কেনা হল প্রিন্টার কোম্পানির কাছে আপনার মাসিক সাবস্ক্রিপশন বা বিল এর মত।  আপনি ভেবে ভেবে মরছেন, কালির দাম এতো বেশি কেন? অদিকে প্রিন্টার কোম্পানি প্রিন্টার নয় কালি বেচে তাঁদের আসল লাভ আয় করছে।

এইচপি এনভি ৪৫২০ প্রিন্টার আমেরিকায় বিক্রি হয় ৭০ ডলারে, তবে তার আনুমানিক তৈরি ব্যায় ১২০ ডলার।  এখানে এইচপি বেশ কয়েকডলার লস করছে প্রিন্টার বিক্রি করে, তবে তারা কার্টিজ তথা কালি বিক্রি করে সেই টাকা পুষিয়ে নিবে।   এখন এমনও তো হতে পারে আপনি অন্য কোম্পানির কার্টিজ ব্যবহার করবেন।  আর এই জন্যও রয়েছে ফন্দি।  ব্র্যান্ড গুলো তাঁদের নিজেদের কার্টিজ এর ভেতর একটি বিশেষ মাইক্রোচিপ ফিট করে রাখে।  আর নিয়মিত ব্যবহারকারীর কম্পিউটার এর  মাধ্যমে সেই চিপে নানা ফার্মওয়্যার আপডেট প্রদান করা হয়ে থাকে।  এতে করে বাইরের কোন কোম্পানির কার্টিজ ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পরে, যেগুলো দামে অনেকটা কম হয়।

যদিও প্রিন্টার কোম্পানি গুলো তাঁদের রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্ট এর জন্য প্রতিবছর বহু অর্থ ইনভেস্ট করে।  তবুও তারা কালি তৈরির সাপেক্ষে যে টাকা নেয়, তা খুবই বেশি।  ১ লিটার কালি তৈরিতে রংভেদে খরচ পরে ২৪০০ টাকা থেকে ৪৮০০ টাকা।  তবে আপনি কার্টিজ আকারে সেই পরিমান কালি পেতে চাইলে খরচ করতে হবে লক্ষ লক্ষ টাকা।   এমনকি আপনি যতোটুক কালি কেনেন তার অনেকখানি এমনি এমনি অপচয় হয়, সবগুলো লাগেই না।  কার্টিজের ভেতর থাকা অর্ধেকের বেশি কালি একটি কার্টিজের লাইফ টাইমে কেবল প্রিন্ট-হেড মোছার সময়েই অপচয় হয়ে যায়। …