শাওমি সম্পর্কিত ১০টি তথ্য, যা হয়ত জানেন না!

নোকিয়া থেকে শুরু করে স্যামসাং আইফোনের আধুনিক স্মার্টফোন, আধুনিক প্রযুক্তির জগতে আমারা তাদের বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছি। এদের সফলতার পরে অনেক নতুন প্রতিযোগী মাঠে নাম লিখিয়েছে এবং তাদের যুগান্তকারী দারুন সব পণ্যের মাধ্যমে মানুষের মনে দারুন ভাবে জায়গা করে নিয়েছে। খুবই সাশ্রয়ী দামে দারুন কোয়ালিটি এবং মানসম্মত মানের স্মার্টফোনের জন্য আপনি শাওমির জনপ্রিয়তা ও সাফল্যকে অস্বীকার করতে পারবেননা কোনভাবেই।   

আজ শাওমি সম্পর্কে ১০ টি তথ্য জানাবো যা হয়ত আপনার অজানা, তবে আমার মনে হয় আপনার জানা উচিত। 

নাম 

শাওমি নামটা মূলত বোঝায় ভুট্টা এবং চাল। আর এই নামটা একটি বৌদ্ধ তত্ত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে।   যার ফলে শাওমি নামটা বোঝায়, বড় কিছু করার আগে খুব ছোট কিছু দিয়ে শুরু করা। আর তাদের Mi লোগোটা বোঝায় ‘মিশন ইম্পসিবল’। এটা সিনেমার নাম বলে ভুল করবেন না। তারা এই লোগোটা দ্বারা বোঝায় যেকোনো অসম্ভব কিছুকে তারা সম্ভব করতে পারবে। 

চায়নার অ্যাপেল 

শাওমিকে বলা হয় চায়নার অ্যাপেল। কেননা তাদের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার ডিজাইন, সিমপ্লিসিটি এবং মিনিমাল ভাবের ভেতর অ্যাপেলের ছোঁয়া পাওয়া যায়। অ্যাপেল আমেরিকায় মানুষকে অ্যাপেল ব্যবহারের জন্য ঠিক যেভাবে উৎসাহ দেয়, শাওমি ঠিক একইভাবে চায়নায় তাদের মত করে মানুষকে শাওমি ব্যবহার করতে উৎসাহ প্রদান করে। 

অ্যাপেল যেমন আমেরিকা এবং উন্নত বিশ্বে তাদের অ্যাপেল টিভি বাজারজাত করে। শাওমিও তাদের নিজেদের এলাকায় শাওমি টিভি বাজার জাত করে। সিঙ্গাপুর এবং চায়নায় শাওমি টিভি বেশ ভালোভাবে জনপ্রিয়। আপনি আমেরিকায় সহজেই অ্যাপেল টিভি দেখতে পেলেও, চায়নায় অ্যাপেল টিভি পাবেননা। সেখানে পাবেন শাওমি টিভি। 

খরগোশ 

মিটু

প্রতিটি বড় বড় কোম্পানির একটি ম্যাসকট থাকে। তেমনি শাওমির ম্যাসকট হচ্ছে একটি খরগোশ, তার নাম ‘মিটু’। আর এই খরগোশটি মাথায় একটি বিশেষ ধরনের ক্যাপ পরে থাকে যার যার না হচ্ছে ‘উশাঙ্কা’। আর তার মাথার এই বিশেষ ক্যাপ তথা টুপির মাঝে একটি লালতারকা আছে। তাছাড়াও এই খরগোশটি তার গলায় একটি লাল স্কার্ফ পরিধান করে। তাদের ম্যাসকটটি খুবই কিউট না?  

শাওমি শোরুম দিতে কম আগ্রহি

শাওমি অফিশিয়ালি ফিজিক্যাল দোকানে বা শোরুমে স্মার্টফোন বিক্রয় করতে আগ্রহি নয়। তারা মূলত তাদের এতো জনপ্রিয়তা এনেছে কেবল অনলাইনে স্মার্টফোন বিক্রি করেই। বর্তমানে মানুষের অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনা করে তারা স্বল্প পরিসরে অফিশিয়ালি শোরুম তৈরি করেছে। বাংলাদেশে শাওমির কার্যক্রম পরিচালিত হয় সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশের অধিনে, তাছাড়া শাওমি কখনও এতো শোরুম দিতে আগ্রহি নয়। ভারতে গুটিকয়েক বড় শহর ছাড়া শাওমির অফিশিয়াল শোরুম নেই। আর শাওমির অফিশিয়াল শোরুমকে বলা হয় মি-হোম।  

বিজ্ঞাপন 

এতো জনপ্রিয়তা পাওয়া পর্যন্তও শাওমি কোনরকম টেলিভিশন বিজ্ঞাপন বা বিলবোর্ডে তাদের অর্থ খরচ করেনি। ব্যাপক ভাবে মানুষের মনে সমাদৃত হওয়ার পর তারা তাদের ব্যবহারকারীদের মন রক্ষা করার জন্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দিয়েছে কয়েকটি, যা আমরা ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছি। তাছাড়াও তারা টিম স্পন্সরসিপের মত ব্যাপারে টাকা খরচ করে প্রচারনা বাড়ায়না।   

ওয়ার্ল্ড রেকর্ড 

শাওমি ভারতে তাদের ১৫০০০ পিস ”মি৩” মাত্র ২ সেকেন্ডে অনলাইনে সোল্ড আউট করে। মি৩ স্মার্টফোনকে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বিক্রিত স্মার্টফোন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এমনকি ২০১৪ সালে তারা গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলে। তারা একদিনে তাদের ২.১ মিলিয়ন পিস স্মার্টফোন বিক্রি করে। 

বিশ্বরেকর্ড শাওমি

তাছাড়াও তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইট মোজাইক এর বিশ্ব রেকর্ড হাছিল করেছে। 

এক্স-গুগলার  

যারা গুগলে কাজ করে তাদের গুগলার বলা হয়। যারা গুগলে কাজ করে টেকনিকের দিক দিয়ে তাদের মাথা অনেক বড় তা আমরা জানি! শাওমির কোম্পানিটির নেতৃত্বের মানুষদের ভেতর ৩ জন গুগল থেকে চাকরি ছেড়ে এসে শাওমির শুরুতে জয়েন করেছিলো। তাই শাওমির বর্তমান সফলতার পেছনে যে তাদের দারুন ভূমিকা আছে, তা কিন্তু আমরা ধারনা করতেই পারি।

বিল্ড-ইন-ক্যামেরা প্রযুক্তি 

শাওমিই প্রথম তাদের ক্যামেরায় এমন একটি প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে, যা ক্যামেরার ভেতরই আপনার সেলফিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে, (সাধারনভাবে যা সফটওয়্যার করে)। যদিও পরবর্তীতে অনেক কোম্পানি তাদের ক্যামেরাতেও এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। 

হেড কোয়ার্টার 

শাওমির প্রথম সফল বিক্রি ছিল সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুর থেকে তাদের পণ্যের প্রতি মানুষের ভালো ফিডব্যাক এবং ভালোবাসা থেকে চৈনিক এই কোম্পানিটি ঠিক করে তাদের হেড কোয়ার্টার সিঙ্গাপুরেই করবে এবং তা করেছেও। 

শাওমির লোগো 

শাওমি লোগো

শাওমির লোগো এর ভেতর একটা লুকায়িত ব্যাপার রয়েছে। এই লোগোটি উল্টো করলে এটি একটি চাইনিজ কারেক্টার এর মত হয়। ইংরেজিতে যে ক্যারেক্টার এর মানে হার্ট তথা মন।